ফিরোজ সুলতান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে ভাড়ার দোকান ঘর দখলকে কেন্দ্র করে রাতের আধারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৯ জন। তারা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) রাত ৯ টায় সদর উপজেলার ভুল্লী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ সাদ্দাম হোসেন জানান, আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে কিছু লোকজন এসে স্থানীয় চেয়ারম্যান সহযোগীতায় আমার দোকান ঘর ভাংচুড় করে এবং অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। তারা আমাদের বেদম প্রহার করে এবং দোকানের প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার পানির পাম্প ও ট্যাংক নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার বড় বালিয়া গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিন সরকারের ছেলে বাহার আলী সরকার ২০১৭ সালের ২রা আগষ্টে ২ বছর মেয়াদে ভুল্লী এলাকার কচুবাড়ি গ্রামের ইয়াকুব আলীর দোকান ঘর ভাড়ার চুক্তিপত্র করেন। এর ৬ মাস পরে বাহার আলী দোকানের মালিক ইয়াকুব আলীর নিকট পূর্বের দোকান সংলগ্ন আরেকটি দোকান চুক্তি পত্রের মাধ্যমে ভাড়া নেন। দোকান দুটির ভাড়ার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ইয়াকুব আলী ভাড়াটিয়া বাহার আলীকে নতুন চুক্তিপত্র করতে বলায় ভারাটিয়া বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করলে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটান ভাড়াটিয়া বাহার আলীর লোকজন।

এ ঘটনায় বিগত সময়েও কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আতিক জানান , আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকেই আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত স্থানীয় চেয়ারম্যান মুক্তি জানান, আসন্ন নির্বাচনে আমার ভাবমূর্তি নস্ট করার জন্যই এ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।