নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোরের শিশিরের মতো চকচকে জমিন জেগে আছে দিগন্ত জুড়ে। বেলে দোআশ থকথকে কাদা জানান দিচ্ছে উর্বরতার। লিকলিকে সবুজের থরোথরো কম্পন ধারণ করতে প্রস্তুত সমস্ত চরাচর। এমন সময় কৃষকই যে মাঠের প্রকৃত শিল্পী। তাইতো তারা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ক্যানভাসে রঙের আচড় দিতে। কৃষকের আঙুলে ফালাফালা করে প্রিয় হৃৎপিণ্ডের মতো জমিনে আঁকবেন রঙবেরঙের চিত্র। আমন ধান ঘরে তুলার সাথে সাথে শুরু হয়েছে বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরির কাজ। দামুড়হুদার কুড়ুলগাছির কৃষকরা বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অগ্রহায়ণ মাস বোরো ধানের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় বলে মনে করে কৃষকরা। বীজতলায় রোদ পড়ে এমন উর্বর ও সেচ সুবিধাযুক্ত জমি বীজতলার জন্য নির্বাচন করে চাষীরা। চাষের আগে প্রতি বর্গমিটার জায়গার জন্য ২-৩ কেজি জৈবসার দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করে থাকে। পানি দিয়ে জমিকে থকথকে কাদা করে এক মিটার চওড়া এবং জমির দৈর্ঘ্য অনুসারে লম্বা করে ভেজা বীজতলা তৈরি করা হয়। বীজ বপন করার আগে ৬০-৭০ ঘণ্টা জাগ দিয়ে রাখতে হয়। এসময় ধানের অঙ্কুর গজাবে। অঙ্কুরিত বীজ বীজতলায় ছিটিয়ে বপন করতে হয়। প্রতি বর্গমিটার বীজ তলার জন্য ৮০-১০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। বোরো ধানের বীজতলার অতিরিক্ত ঠান্ডায় চারা যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য কৃষকরা রাতের বেলা চারার উপরে সাদা পলিথিন দিয়ে বা কলার পাতা দিয়ে খুঁটি বা কঞ্চির সাহায্যে ছাউনির মতো করে ঢেকে দেয়, যাতে করে চারা নষ্ট না হয়। পরদিন সকালে রোদ দেখা দিলে পলিথিন বা কলার পাতা ছাউনি আবার সরিয়ে রাখে রোদ লাগার জন্য। কৃষকরা বীজতলা প্রতিদিন সকালে একবার করে দেখে আসেন, কারণ বীজতলার চারা যাতে হলুদ ও পাতা ঝলসানো রোগে আক্রমণাত্মক না হয়। তাহলে কৃষকরা চারায় ইউরিয়া ও জিপসাম সার দিয়ে থাকে। বীজতলা থেকে চারা তোলার এক সপ্তাহ আগে কৃষকরা কীটনাশক দিয়ে থাকে। এতে বীজতলার চারা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগত বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষের জন্য ৭ হাজার হেক্টর, এবং স্থানীয় জাতের জন্য ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে ধানের চারা রোপণের জন্য ১ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। লক্ষ্যমাত্রার বীজতলার মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজতলা ৪৫০ হেক্টর, এবং স্থানীয় জাতের ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫০ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির কাজ শেষে করেছেন কৃষকরা