সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও র‌্যালি সহ বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে ৭ই ডিসেম্বর সাতক্ষীরা হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে ।সোমবার দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ মোশারফ হোসেন মশুসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভায় বক্তারা স্মৃতিচারন করে বলেন, আজ ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এস এল আরের ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। সন্তান হারানোর বেদনা ভুলে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিপাগল আপামর জনতা। দীর্ঘ ৯ মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেদিনের সাহসী সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। পাক হানাদার ও তাদের দোসররা মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছিল। ধ্বংস করতে চেয়েছিল বাঙ্গালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে। শত্রুর বুলেটের এত সব আঘাত সহ্য করেও সাতক্ষীরার সন্তানরা অন্ততঃ ৫০টি যুদ্ধের মোকাবেলা করেছিল। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, বিজয়ের ৪৯ বছর পরেও সাতক্ষীরার বধ্যভূমি ও গণহত্যার স্থানগুলো সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই। বিশেষ বিশেষ দিবসে বারবার আশার বাণী শোনানো হলেও আজ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা শহরের প্রধান বধ্যভূমি ও গণহত্যার স্থান সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বধ্যভূমিটি চিহ্নিত করারই কোন প্রচেষ্টা নেই। আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরার বধ্যভূমি ও গণহত্যার স্থানগুলো সংরক্ষণে দৃশ্যমান করার জোর দাবি জানান। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।