নিতিশ সানা, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার কয়রায় উপজেলা শহর (নেন -মিউনিসিপ্যাল) মাস্টার প্লান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় (১) ৪৯০ ও (২) ৪৬৮ মিটার আর সি সি ড্রেনের ২টি প্যাকেজে একত্রে ৯৩,লক্ষ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কয়রা সদরের তিন রাস্তার মোড় থেকে থানা অভিমুখে ৪৬৮ মিটার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিগত প্রায় ১ মাস যাবত ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছে ওই এলাকার ব্যবসায়ী সহ প্রতিদিন উপজেলা সদরে আসা হাজারো জনসাধারণ। সড়কের ওপর ড্রেনের অব্যবহৃত মাটি এবং ইটের স্তুপ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ। যে কারণে যানবাহন চলাচল করার উপযোগিতা হারিয়েছে সড়কাটি। রাস্তার এক পাশে নির্মাণসামগ্রী অন্য পার্শে মাটি ফেলায় ব্যস্ততম সড়কটির জনদুর্ভোগ চরমে। তাছাড়া কাজের শুরুতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ডিজাইন অনুযায়ী মালামাল না দেওয়ায় স্থানীয় জনগণের একাধিক বার বাঁধার মুখে দায়সারা ভাবে কাজ করে চলেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়দের বার বার বাঁধার মুখে দায়সারা কাজে মান নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো ভ্রক্ষেপ নেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির।

জানা যায়, ২ টি প্যাকেজে একত্রে প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরসিসি ড্রেনের নির্মাণ কাজটি পান মেসার্স সানা এন্টারপ্রাইজ। এরপর প্রায় বিশদিন পূর্বে সেই ড্রেন নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। পরে তারা সড়কের ওপর মাটি ও ইটের স্তুপ রাখে। রাস্তার ওপর রাখা মাটি একদিকে যেমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে রাখায় ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অপর দিকে পথচারীরা ধুলা মাটিতে হচ্ছে অতিষ্ট।অথচ উপজেলা পরিষদ, আদালত, থানা,ডাকবাংলা, সোনালীব্যাংক, পুরাতন বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার একমাত্র ব্যস্ততম সড়ক এটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন,কিছু দিন আগে করোনার কারনে দোকান পাট ভালো ভাবে খুলতে পারিনি এখন একটু খুলছি তাও দোকানের সামনে ড্রেনের মাটি স্তুপ করে রাখায় কাস্টোমার আসতে খুব সমস্যা হচ্ছে সাথে ধুলা বালুর অত্যাচার তো আছেই।
আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ভ্যান চালক বলেন, এক পাশে ড্রেন খোঁড়া, এক পাশে মাটি স্তুপ করে রাখা ও ড্রেনের কাজের মালামাল এখানে সেখানে রাখায় উপজেলা পরিষদে যাত্রী নিয়ে যেতে ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে ৫ মিনিটের পথ যেতে হচ্ছে ২০ মিনিটে । সাধারন মানুষের দাবী ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান কিন্তু এ কাজের সাথে যেসব নির্মাণ সামর্গী আছে সেসব যত্রতত্র ফেলে রাখায় ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোগান্তি ছাড়াও ড্রেনের কাজের শুরুতেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । ড্রেনের কাজে ব্যবহারিত রড, বালু ও পলিথিন কম দেওয়ায় স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে পড়ে পরে কিছুটা দায়সারা ভাবে কাজ করে চলেছেন । স্থানীয় বাসিন্দা আনারুল ইসলাম জানান, প্রকল্পে সাইন বোর্ড স্থাপনের জন্য বারবার বলার পর প্রকল্প শুরুর ২০ দিন পর সাইনবোর্ড স্থাপন করলেও কাজে রড কম দিচ্ছিল আমরা স্থানীয় জনসাধারণ বাঁধা দেওয়ার পর পুনরায় রড লাগিয়েছে। প্রথমে দায় সারা ভাবে পলিথিন ছাড়াই ইটের সলিং দিয়েছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক এস এম জাহানে আলম জননুন বলেন, শিডিউলের সাথে ডিজাইনের মিল না থাকায় রডে একটু ঝামেলা হয়েছিল পরে তা ঠিক করা হয়েছে ।
প্রকল্পের কাজ নিয়ম মাফিক হচ্ছে।কাজ ইঞ্জিনিয়ার অফিস তদারকি করছে। কাজের মান খারাপ করার কোন প্রকার সুযোগ নেই বলে দাবী করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

ঠিকাদার আরো বলেন, মাটি কোথায় নিয়ে যাবো সঠিক জায়গা না পাওয়ায় সরানো হয়নি।

এব্যাপারে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান,আমরা তদারকি করছি কাজের মান ঠিক আছে।রডের কমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব রড তো একবারে ব্যাধা যায় না পরে ঠিক করে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, উপজেলা সদরে ড্রেনের কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি নিজে দরকারি করবো। জনগনের ভোগান্তি লাঘবে আমি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করাসহ মাটি সরানোর জন্য বলবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগে উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা কাজে ব্যবহৃত পানি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য একই স্থানে রাস্তার অপর পাশদিয়ে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেন নির্মাণ, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও যেনতেনভাবে ড্রেনটি নির্মাণ করায় বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণের কোন কাজে আসেনি লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই ড্রেনের বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নেই।

সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে ওই ড্রেন নির্মাণে সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্চা গেলেও জনসাধারণের কাজে আসিনি। এ প্রকল্পটিও যেন আগের মত না হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এমন অভিযোগ তুলেছেন বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণ রা।