সুলতান আল একরাম,ঝিনাইদহঃ ফসলী মাঠের মধ্যেই করা হয়েছে ইটভাটা। এরই পাশে কৃষক হোসেন আলীর বোরো ধানের বীজতলা ক্ষেত। এখান থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে পানি ঢুকে ভাটার ইট অল্প কিছু ভিজে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাটা মালিক এমদাদুল হক সোহাগের কাছে থাকা সটগান দিয়ে ২/৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে কমান্ড স্টাইলে ওই কৃষকের বাড়িঘর ভাংচুর চালান। এ সময় তাদের মারপিটে ওই কৃষকের স্ত্রী সাকিলা খাতুন (৪৫) তার ছেলে রবিউল ইসলাম (২২) আহত হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটালেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এমন ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ধানের বীজতলায় পানি দেওয়ার সময় গভীর নলক‚পের পানি ইদুঁরের গর্ত দিয়ে ভাটায় প্রবেশ করে কিছু ইট ভিজে যায়। এ নিয়ে ইয়াফাত ব্রিকস এর মালিক আব্দুল মতিন বিশ^াস ও হোসেন আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তারা হোসেন আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম বাবুকে মারধর করে। এর এক পর্যায়ে ভাটা মালিকের ছেলে ইমদাদুল হক সোহাগ ঘটনাস্থলে এসে ২/৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এরপর কমান্ডে ষ্টাইলে ভাটার পাশেই হোসেন আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করে।

ভাটা মালিক এমদাদুল হক সোহাগ

হোসেন আলীর শ্যালক সেলিম উদ্দিন ওলি জানান, ইদুঁরের গর্ত দিয়ে ভাটায় পানি প্রবেশ নিয়ে ভাটার ম্যানেজার রহিম হোসেনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রবিউল ইসলাম বাবুকে মারধর করে। ভাটার মালিক আব্দুল মতিন বিশ^াস (পাতা মিয়া) ও পুলিশ এসে দুলাভাই হোসেন আলীকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় ভাটা মালিকের ছেলে ইমদাদুল হক সোহাগ এসে গুলি করে। ২০/২৫ জনের একটি দল নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে দুলাভাই ও বোনকে মারধর করে ও টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

এদিকে ওই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কালীগঞ্জ থানার এস আই সৈয়দ আলী জানান, ওসি সাহেবের নির্দ্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে তার সামনে কোন গোলাগুলি হয়নি বলে জানান।

এ ব্যাপারে ভাটার মালিকের ছেলে ইমদাদুল হক সোহাগ মুঠোফোনে জানান, তার বাবাকে মারধর করে পাঞ্জাবী ছিড়ে দিয়েছে এবং লাঠিসোঠা নিয়ে ভাটায় হামলার চেষ্টা করছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোহাগ লাইসেন্সকৃত শটগান দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহা: মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। স্থানীয়রা বলছে, ভাটার মালিকের ছেলে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। এ ব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব। ভাটার মালিকের ছেলে ইমদাদুল হক সোহাগের একটি লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে।