করোনা মহামারির মধ্যেই বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। সীমিত পরিসরে যীশুর জন্মদিন উদযাপন করছে বিভিন্ন দেশ। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কড়াকড়ি থাকলেও অনেক জায়গাতে উপেক্ষার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

করোনায় চিরচেনা রূপ হারিয়েছে বিশ্ব। বড়দিনের আয়োজনেও মহামারির ছাপ স্পষ্ট। নেই প্রতিবছরের মত উল্লাস, আয়োজন। যীশুর জন্মস্থান বেথলেহেমেও নেই পর্যটকদের ভীড়। বাতিল হয়েছে বেশিরভাগ আয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে হয়েছে বড়দিনের প্রার্থণা।

যিশু খ্রিষ্টের জন্মস্থান ফিলিস্তিনের বেথেলহাম। প্রতিবছর বড়দিনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো মানুষ জড়ো হন এখানে। কিন্তু, এবারের চিত্র ভিন্ন। সীমিত আকারে শুধু নগরবাসীদের নিয়েই উদ্‌যাপন হচ্ছে বড়দিন।

ভ্যাটিকান সিটিতে অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে বড়দিনের প্রার্থণা সেরেছেন পোপ ফ্যান্সিস। বড়দিনের সাজসজ্জা থাকলেও চোখে পড়ে না দর্শণার্থীদের ভীড়। বড়দিনে করোনামুক্ত বিশ্বের প্রার্থণা করেন পোপ।

অন্যবছর বড়দিনকে ঘিরে উৎসবমুখর বাসিন্দাদের ভীড় থাকলেও এবছর কমেছে সেই সংখ্যা। রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করে সংক্রমণ রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে গ্রিস সরকার। এথেন্সসহ বড় বড় শহরে বাড়ারো হয়েছে কড়াকড়ি। বড়দিনে জনসমাগন রোধে সড়কে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে ইতালির অনেক জায়গায়। বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে কেনাকাটা করতে শপিংমলগুলোতে ভিড় করেন অনেকেই। বড়দিনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। করোনা ভীতির মধ্যে উৎসবের প্রস্তুতি নিয়েছেন দেশটির নাগরিকেরা।

সংক্রমণ বাড়লেও উৎসবে মেতেছে রাশিয়ার মস্কোবাসী। বড়দিনকে ঘিরে চলছে মেলা। বরাবরের মতোই রয়েছে চোখ ধাধানো আলোকসজ্জা।

বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব। এসময় করোনায় প্রাণহারানোদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। বলেন, উৎসব পালন করতে গিয়ে করোনার বিস্তার যেন না বাড়ে সেবিষয়ে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে।

বড়দিন উপলক্ষ্যে রাত্রিকালীন কারফিউ তুলে নিলেও কড়াকড়ি বজায় রেখেছে হাঙ্গেরি। তবে, উল্টো চিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন জায়গায়। বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করেই ইতালির সড়কে দেখা গেছে জনসমাগম। বড়দিনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতেও উপচে পড়া ভীড়।