হারুনুর রশিদ নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মাহমুদাবাদ গ্রামের নীলকুঠি মৃত গাজী মিয়ার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে জান্নাত বেগম (৮)। দীর্ঘদিন যাবত বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে দূর্বিষহ জীবন যাপন করছে। গত দুই বছর পূর্বে মেয়েটির বাবা গাজী মিয়া ব্লাড ক্যন্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করার পর থেকে পরিবারটি দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত।মেয়েটির ৪ ভাই তাদের ভিন্ন ভিন্ন সংসার। তাকে বরন পূষন করা একটি মাত্র ভাই দিনমজুর হিসেবে সংসার ছালানো খুব কষ্ট কর। মেয়েটির মা নিজেও অসুস্থ এবং দরিদ্র অসহায় জীবন যাপন।
মা পারবিন বেগম জানান,আমার মেয়ে জান্নাত বেগম প্রতিবন্ধী বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। গত তিন বছর পূর্বে জান্নাতের হটাৎ জ্বর আসে শরীরে ছোট ছোট ঘামাচির মতো বের হয়ে চুলকানি শুরু হয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে ঔষধে কিছুটা কমে যায়। তার পর থেকে সারা শরীরে চামড়ার উপরিভাগে প্রচন্ড চুলকানোর ফলে চামড়া উঠে রক্ত বের হতে থাকে। তাকে নিয়ে দূর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
গত দুই বছর পূর্বে স্বামী গাজী মিয়া ব্লাড ক্যন্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে।মেয়েকে নিয়ে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। ৪ ছেলে ৩জন বিয়ে করে ভিন্ন ভিন্ন সংসার পেতেছে। আমার সাথে থাকা ছোট ছেলে দিনমজুরী করে সংসার ছালানো খুব কষ্ট কর। তারি মাঝে নিজেও অসুস্থ কি করে করাবো মেয়ের চিকিৎসা ? আমি হত দরিদ্র মানুষ। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সম্বল বলতে আমার একটি বসত ঘর। যা বিক্রি করলে আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো। পার্শ্ববর্তী ভৈরবে ডাক্তার দেখিয়ে কিছু ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে। তাতে ভালো হচ্ছেনা। ডাক্তার বললো ঢাকায় নিয়ে ভালো চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে উঠবে। টাকার অভাবে করাতে পারছিনা। প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসার করাতে পারবো কি-না দুশ্চিন্তায় দিন যাচ্ছে। সকলের কাছে আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য চাচ্ছি। বিত্তশীলরা যদি আমাকে সাহায্য করেন তাহলেই কেবল আমার মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব। আমার মেয়েকে বাঁচান বাঁচান।

মেয়েটির বড় ভাবী জানান,আমার বিয়ের পর থেকে দেখছি সে একই রখম বিভিন্ন অসুস্থতায় রয়েছে। চর্মরোগ টা দীর্ঘদিন যাবৎ।গায়ে চুলকানি শুরু হলে ভয়ে তার নিকট থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।স্হানীয় ভাবে ভৈরব প্রাইভেট হাসপাতালে ঢাকা থেকে আগত অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি।কিন্তু ঔষধ দিলে চুলকানি কমলেও ভালো হচ্ছে না।ডাক্তার বলেছে বর্তমানে সে চরম ঝুকির মধ্যে আছে। ডাক্তার বলেছে তাকে বাঁচাতে হলে কয়েক লক্ষ টাকা প্রয়োজন। অসহায় হত দরিদ্র বাবার কন্যাকে বাঁচাতে পারে একমাত্র সকলের সাহায্য।তাই আমার অসুস্থ বোনকে বাঁচাতে সকলের সাহায্য কামনা করছি।

নীলকুঠি বাজারের পল্লী চিকিৎসক ইব্রাহীম বলেন, সে বাকপ্রতিবন্ধী অসুস্থতার কথা বলতেও পারে না। চুলকানিতে চিৎকার চেচামেচি দেখে খুব খারাপ লাগে। ভালো করতে হলে ব্যয় বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন।

মির্জাপুর ইউপি সদস্য বকুল মেম্বার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,প্রতিবন্ধী মেয়েটি বিরল রোগে আক্রান্ত।
দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা করানো অসম্ভব। কঠিন রোগে আক্রান্ত প্রতিবন্ধী মেয়েটি সুস্থ হয়ে সাভাবিক জীবন ফিরে পাবার প্রত্যাশায় স্হানীয় এলাকাবাসীর।