নুপুর কুমার রায়,শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রূপসী-ঘাটাবাড়ি সড়কের প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কংক্রিট সেতুটি দুই বছরেই ভেঙে গেছে। ফলে ওই এলাকার ৫ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আড়াই বছর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের কংক্রিট সেতুটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়। ফলে বর্ষার শুরুতেই সামান্য পানির চাপে সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে হঠাৎ সেতুটির মাঝ বরাবর ভেঙে পড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শর্তাবলি না মেনে সেতুটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে। ফলে নির্মাণের দুই বছর পার না হতেই সামান্য বন্যার পানির চাপে এটি মাঝ বরাবর ভেঙে পড়েছে। সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বর্তমানে রূপসী, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর, পাকুরতলা ও কুঠিরপাড়া গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তবে তৎকালিন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিন্দার আলী সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যাবহারের বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছোটখাট বিষয় নিয়ে মাখামাখি করেন না। শতভাগ কাজ হয়েছে।
এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ বলেন, গাইড ওয়াল না থাকা ও নির্মাণ ক্রুটির কারনে পানির তোর সহ্য করতে পারে নি। সেতুটি ভেঙে ফেলে ওইখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করে এ অঞ্চলের হাজারও মানুষের দূর্ভোগ লাঘবের জন্য আশুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্যার পানির স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যাবহার হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। তবে তিনি আরও বলেন জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরী করে দিবো।