নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
তামিম ইকবাল খান। বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার। দেশের ক্রিকেটে তার অবদান অনস্বীকার্য। দেশের ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন। তার নামের পাশে রেকর্ডের সংখ্যাও কম নয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ফরমেটের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অনেক দিন যাবৎ তিনি টি-টুয়েন্টি ফরমেট থেকে রয়েছেন দূরে। অনেকেই বলছেন, তার এই দূরে থাকার কারণ শুধু যে তার অনেক দিন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে না খেলা সেটাই নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও কিছু কারণ। কারণ বিপিএল এ তার পারফরমেন্স ছিল নজরকারা। এই পারফরমেন্সের পরও তিনি বাংলাদেশ দল থেকে দূরে। কেউ কেউ বলছেন অভিমানের কারণে দেশের হয়ে এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটটি খেলছেন না তামিম ইকাবাল। যদি এমনই হয়ে থাকে তাহলে কি দেশের থেকে তামিমের কাছে তার অভিমানটাই বড় হয়ে গেল এমনটাই প্রশ্ন অনেকের

২০১৮ সালের পর থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচ খেলেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। মূলত এ কারণেই তিনি নিজেকে বিশ্বকাপ দল থেকে সরিয়ে নেন। এ সময় তিনি দেশের হয়ে না খেলে চলে যান নেপালে। সেখানে তিনি এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগ খেলেন। যদি পুরো খেলা শেষ না করেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। আঙ্গুলে চোটের কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন। চিকিৎসার পর সম্পূর্ণ ফিট হলেও তামিম দেশের ক্রিকেট খেলার প্রতি তার কোনো ইচ্ছা বা আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় নি। বিপিএল এ তার পারফরমেন্স দেখে তার সাথে আলোচনা শুরু করে বিসিবি। তারপরেও তামিমের মন গলাতে পারে নি বিসিবি। শেষ পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে নিজেকে সরিয়েও নেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, আমি আগামী ৬ মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিবেচনা করছি না। এই ৬ মাস আমার পূর্ণ মনোযোগ থাকবে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে। আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে- সেটার প্রস্তুতি আছে। আমার পুরোপুরি মনোযোগ এই দুই ফরম্যাটে থাকবে।

জাতীয় দলের হয়ে তামিম ইকবালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট না খেলা নিয়ে মান-অভিমানের প্রসঙ্গই সেক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে বারবার। বাংলাদেশ দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও বলেছিলেন, মনোমালিন্যের কারণে জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তামিম ইকবাল। হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর সাথে তামিমের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সেখান থেকেও এই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সুজন। বলেছিলেন, দলের মধ্যে ছোটখাট মনোমালিন্যের ঘটনা থাকতে পারে। আর সেসব মূলত যোগাযোগের ঘাটতি, ব্যাখ্যার অপর্যাপ্ততার মতো বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশের হয়ে যখন কোনো খেলোয়াড় খেলে তখন তাকে সব সময় মনে রাখতে হয় দেশের কথা। দেশ আগে, তারপর মান-অভিমান। তামিম দেশের সেরা একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তার এই আচরণ দেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলকর নয়। যেখানে বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হতশ্রী পারফরমেন্স করছে সেখানে তার এই অভিমান খুবই দৃষ্টিকটু। তামিম আগে দেশের কথা ভাবলে সে যখন ফিট হয়েছে তখনই দেশকে সার্ভিস দিতে মুখিয়ে থাকতো। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশ ধুকছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছ থেকে আমরা এটা আশা করতে পারি না। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে তরুণ ক্রিকেটারের ওপরেও প্রভাব ফেলবে। তাই দেশের ক্রিকেটের কথা ভেবে তামিমের ৬ মাস টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট থেকে সরে থাকার যে সিদ্ধান্ত, সেটা থেকে সরে আসা উচিৎ। কারণ সামনেই আরেকটা টি-টুয়েন্টি দরজায় কড়া নাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল এখনও তাদের ওপেনার ঠিক করতে পারে নি। এই অবস্থায় তামিমের ফিরে আসা দেশের ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তামিমের দেশের কথা ভাবা উচিৎ।