মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব,ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুর সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখা থেকে  চুরি হওয়া নগদ ২০ লক্ষ টাকার মধ্য থেকে ১৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার সহ ০২  আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সেই  সংক্রান্তে আজ বুধবার,১৬/০৩/২২ তারিখ দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির আয়োজনের মাধ্যমে জানানো হয়,
গত  ০৬/০২/২০২২ তারিখ ফরিদপুর পোস্ট অফিস হইতে তার বাবার পেনশনের সঞ্চিত ২০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন, উক্ত টাকা নিয়ে সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখায় সঞ্চয়পত্রের জমা রাখার উদ্দেশ্যে  ম্যানেজারের কক্ষে সোপা সেট এর উপর টাকার ব্যাগটি রেখে ম্যানেজার সাথে কথা বলেন, ম্যানেটার তাকে টাকা জমা নেওয়ার  কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন,তিনি কথা বলার জন্য  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডেসকে যান, এর মধ্যে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোরেরা উক্ত ২০ লক্ষ টাকার ব্যাগটি চুরি করে নিয়ে দ্রুত ব্যাংক হতে চলে যায়।
তারি পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৪২), পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, সাং-বিলমামুদপুর নুর মোহাম্মাদ ডাঙ্গী, থানা-কোতোয়ালী,থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। ১৯ তারিখ ০৭/০২/২০২২ খ্রিঃ, ধারা-৩৮০ পেনাল কোড রুজু করা হয় । মামলাটি কোতায়ালী থানার এস আই শামীম হাসানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, শামীম হাসান মামলাটি তদন্ত কালে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৩ জন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীততে এস আই শামীম হাসানের নেতৃত্বে কোতয়ালী থানার একটি টিম গত ১৫/০৩/২০২২ তারিখ  ভোর ০৫.০৫ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ ফারুক শেখ (৬০),পিতা-মৃত ফটিক শেখ, সাং-হোগলাডাঙ্গা, থানা-হরিণটানা, কেএমপি খুলনাকে তার নিজ বাসা হতে গ্রেফতার করে। এসময়  আসামীর নিকট চুরি যাওয়া নগদ ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মতে ও তথ্য প্রযু্ক্তির সহায়তায় অপর আসামী মোহাম্মদ আলী (৪৫), পিতা-মোঃ জৈনদ্দিন ওরফে জিয়া উদ্দিন, সাং-পূব কোলা, থানা-সিরাজদিখান, জেলা-মুন্সিগঞ্জকে একই তারিখ বেলা ১১.০৫ ঘটিকার সময় তার শ্বশুর বাড়ী হইতে গ্রেফতার করা হয়। আসামীর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার নিকট হইতে চুরি যাওয়া নগদ ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। পরবর্তীত ২ জন আসামীর দেওয়া তথ্যমতে  বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া  থানার উত্তর চাঁদসিরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয় কিন্তু আসামী বাসা হতে পূর্বেই বাসা হতে পালিয়ে যায়। তার বাসা হতে চুরি যাওয়া আরো নগদ ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনা যায় আসামীরা দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত তারা ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চুরি করে থাকে। মুলত আসামীরা সরকারী পোষ্ট অফিস, ব্যাংকে  বয়স্ক লোকদের টার্গেট করে থাকে। আসামীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে গাইবান্ধা জেলা সহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। আসামী ফারুক এর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা এর গোবিন্দগঞ্জ থানার মামলা নং-১১, তারিখ- ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৬; জি আর নং-৩৩৬, ধারা- ৩৭৯/৪১১ পেনাল কোড-১৮৬০ রয়েছে।