আলিফ হোসেন, তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে বাঙালী জাতীর জনক, মহান স্বাধীনতার স্থপত্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবস -২০২২ উদযাপন করা হয়েছে। এদিন কর্মসুচির শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন, কেককাটা  দোয়া  ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ১৭ মার্চ বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরীফ খাঁনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্ত্বের আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবু বাক্কার ও সোনীয়া সরদার। অন্যান্যদের আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক আমির হোসেন আমিন,
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক রামকমল সাহা, দপ্তর সম্পাদক জিল্লুর রহমান, কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী ফরহাদ, বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, চাঁন্দুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু, কলমা ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন, সহসভাপতি আতাউর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সম্পাদক জুবায়ের ইসলাম,
আলহাজ্ব সাইদুর রহমান সরকার আবু সাইদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব আবুল বাসার সুজন, উপজেলা সৈনিক লীগের সম্পাদক বদিউজ্জামান নয়ন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্যতম সদস্য রামিল হাসান সুইট, মোর্শেদুল মোমেনিন রিয়াদ, তানভির রেজা ও মাহাবুর রহমান মাহাম প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদী নেতা, তিনিই একমাত্র নেতা যিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ মানুষকে একটি দাবির পক্ষে নিয়ে এসেছিলেন,  যেটা মহাত্মগান্ধী, মাওসেতুং, লেলিনদের মতো নেতারা করতে পারেননি। তিনি বলেন, ৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন ছিল গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ। তিনি সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বহুমাত্রিক প্রতিভাসম্পন্ন ত্রিকালদর্শী পুরুষ ছিলেন, তিনি অতীত জানতেন, বর্তমান বুঝতেন ও ভবিষ্যত পড়তে পারতেন। তার ইতিহাস বোধ বাঙালী জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের সোনার বাংলা গড়ার পথ দেখিয়েছেন। বাঙালীর কি চাওয়া, তাদের দাবি, আশা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ফারুক চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা খুব গভীর ছিল। তার ডাকে সকল মানুষ এক হয়ে যেত। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে অনেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে বললেও তিনি তা দেননি। তিনি ভবিষ্যত পড়তে পারতেন। তার ভিত্তিতে সকল পদক্ষেপ নিতেন। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছেন। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয় বরং সকল ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বলেছেন। বিশেষ অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না  বলেন, একজন মহানায়ক দেশে বারবার আসে না একবার জন্মান। বঙ্গবন্ধু হচ্ছে সেই মহানায়ক। তার মতো করে এমন ত্যাগ আর কেউ করতে পারেনি। তিনি আমাদের আশ্রয় ও পথ চলার নির্দেশদাতা। তিনি বলেন,বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক। তিনি জনগণ ও শাসকশ্রেণির নাড়ি বুঝতেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসা বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য ভাষণ, বক্তৃতা, সভা-সমাবেশ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে জনগণের  সঙ্গে তার যোগাযোগের ক্ষমতা ছিল অনবদ্য। সহজ-সাবলীলভাবে তার কথাগুলো জনগণকে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। আবুল বাসার সুজন বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে তারা মুলত বাংলাদেশকেই অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে আমাদের অভিভাবক প্রাণপ্রিয় নেতা এমপি ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। তিনি সকলকে আওয়ামী লীগের ছায়াতলে আশার আহবান জানান।