নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাকিবকে নিয়ে সমালোচনার যেন শেষ নেই। কিন্তু কখনো কি সাকিবের ত্যাগগুলো দেখার চেষ্টা করেছি। ক্রিকেটের বাইরেও সাকিব যে একটা মানুষ আমরা প্রায়ই তা ভুলে যাই। সাকিবের পরিবার আছে, মা-বাবা,ভাই-বোন সন্তান আছে তাদের প্রতি দায়িত্ব আছে এসব কিছুই যেন আমরা মানতে নারাজ। সাউথ আফ্রিকা ম্যাচ খেলতে মানসিকভাবে ফিট ছিল না জানিয়েছিল বিসিবিকে, তাই এ নিয়েও কত সমালোচনা। কিন্তু তবুও দেশের কথা ভেবে অনেক নাটকের অবসান ঘটিয়ে খেলতে যায় সাকিব। জানা যায়, সাকিবের তিন সন্তান, মা আর শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ হসপিটালে ভর্তি। তবুও দেশের কথা ভেবে প্রাণপ্রিয় সন্তানদের, মায়ের অসুস্থতা সব জেনেও নিজেই বিসিবিকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তৃতীয় ওয়ানডে খেলেই দেশে ফিরবেন।

সাকিব দেশে ফিরে যাবেন, এ আলোচনাটা ওঠে গত রাতেই। যেহেতু মা ও সন্তানেরা অসুস্থ, তাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অলরাউন্ডারকে আগামী ২৩ মার্চ হতে যাওয়া শেষ ওয়ানডে খেলেই দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সে দিন দেশে ফেরার বিমানের টিকিট পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায় আজ সোমবারের টিকিট। সিদ্ধান্ত হয়, আজই তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্তু সাকিব শেষ ওয়ানডেটা খেলতে চান। তাই তিনি আপাতত দলের সঙ্গেই থাকছেন।

বাংলাদেশ দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদও সেটিই বলেছেন, ‘সাকিবের একটা মেডিকেল ইমারজেন্সি আছে। ওর পরিবারে অনেকেই অসুস্থ। সে কারণেই ওর মনে একটা দ্বিধা তো আছেই। ঢাকাতেও পরিবারের সঙ্গে আসা–যাওয়া নিয়ে কথা বলছে। টিকিট বুক করতে হচ্ছে ওর জন্য। আজ রাতে সে চলে যাবে এমন একটা কথা ছিল। কিন্তু সাকিব নিজেই রাজি নয় যেতে, সে খেলেই যাবে। আমি এটিই বলতে পারি, ওর যাওয়ার কথা ছিল ঠিকই, কিন্তু সে এখন শেষ ওয়ানডেটি খেলবে।’

মাহমুদ বললেন, সাকিব খুব করেই চান সিরিজটা জিততে, ‘সে খেলার ব্যাপারে মুখিয়ে আছে। প্রথম ম্যাচে তো ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলো, দ্বিতীয় ম্যাচে রান পায়নি, কিন্তু বোলিংটা খুব ভালো করেছে। সে খেলতে চায়, সিরিজটা জিততে চায়। ওকে ছাড়া টিম কম্বিনেশন বানানো যে কতটা কঠিন, সেটি সে জানে। তবে দারুণ একটা ব্যাপার, সাকিব দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছে। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও দুর্দান্ত একটা ব্যাপার। আমরাও আশা করি সাকিবের পরিবারের সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে। সবাই সুস্থ থাকবে।’

বেশ কিছুদিন আগে সাকিব আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তার ছোট মেয়েটা তাকে মামা বলে ডাকে। কারণ জন্মের পর সে তার বাবাকে টিভিতে দেখতে পেলেও সামনাসামনি খুব কম দেখতো। আর তাই সামনাসামনি সাকিবকে দেখলে ‘মামা’ বলে সম্বোধন করতো। খেলার জন্যই এতোটা দুরুত্ব গড়ে উঠে সন্তানদের সাথে। দেশের স্বার্থে খেলার স্বার্থে আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন সাকিব। পরিবারের এই দুঃসময়েও পাশে না থেকে সিরিজ জয়কেই প্রাধান্য দিলেন। সাকিবের জায়গায় অন্য কেউ হলে কি পারতো এই ত্যাগ স্বীকার করতে? আবার ক্রিকেটের কোনো এক দুঃসময়ে হয়তো এ ত্যাগের কথাও আমরা ভুলে যাবো।