নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

তাসকিনের আগুনঝরা বোলিংয়ে জয়ের লক্ষ্যটা তেমন বড় ছিল না। মাত্র ১৫৫ রানের সহজ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল টাইগাররা। এই সহজ লক্ষ্যকে তারা করে সহজ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাসও গড়ে ফেললো তামিম বাহিনী। যে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে কোনো ফরম্যাটে একটিও জয় ছিল না বাংলাদেশের, সেখানে শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, সিরিজ জয় রীতিমত অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

সেঞ্চুরিয়নে সহজ লক্ষ্য তারা করতে নেমে শুরুতেই বিপদ ঘটিয়ে বসছিল ওপেনার লিটন দাস। দ্বিতীয় বলেই পয়েন্টে ক্যাচ তুলে বসেছিলেন লিটন দাস। সেটা তালুবন্দি করতে পারেননি কেশভ মহারাজ। এরপর আর বাংলাদেশকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক বাউন্ডারিতে রান বেড়েছে। এরপর বিপদে পড়তে পারতেন তামিম ইকবালও। লুঙ্গি এনগিদির একটি বল ঠিকমত খেলতে পারেননি। ব্যাটে লেগে বলটা পিচ করে স্ট্যাম্পের একেবারে কাছেই। কান ঘেঁষে বুলেট যাওয়ার মত অবস্থা। সমূহ বিপদ থেকে বেঁচে যান তামিম। বেঁচে যায় বাংলাদেশও।

বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৪ রানে অলআউট করে দিয়ে ম্যাচকে যতটা সহজে পরিণত করেছিলেন, ব্যাটাররা সেই সহজ কাজটাতে আরও সহজ করে নিলেন। বিশেষ করে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অপর ওপেনার লিটন দাসকে নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১২৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়কে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত মহারাজের বলে বাভুমার হাতে ক্যাচ দিয়ে লিটন ৪৮ রানে আউট হয়ে গেলেও সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে ৯ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তামিম ইকবাল করেছেন ৮৭ রান এবং সাকিব আল হাসান করেছেন ১৮ রান।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে দাপুটে জয়ের পর শেষ ম্যাচে ৯ উইকেটের বড় জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল তামিম ইকবালের দল।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে মাত্র ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা ভালো করেছিল তারা। ৬ ওভারের মধ্যে ৪৫ রান পার হয়ে যায়। ৬.৫ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। আউট হন কুইন্টন ডি কক, ১২ রানে।

মালান করেন সর্বোচ্চ ৩৯ রান। এছাড়া কেশভ মাহারাজ ২৮, ডোয়াইনে প্রিটোরিয়াস ২০ রান করেন। ডেভিড মিলার করেন ১৬ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

তাসকিন আহমেদ ৯ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেটের দেখা পেলেন তাসকিন। সাকিব আল হাসান নেন ২ উইকেট। শরিফুল এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি করে উইকেট।