খুলনা থেকে ইফফাত সানিয়া ন্যান্সিঃ

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিওগ্রাফিতে মাস্টার্স ডিগ্রী এবং দক্ষিণ কোরিয়া সিউলের স্বনামধন্য ‘কোরিয়ান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’ থেকে ‘পাবলিক পলিসি’র উপর এমএস ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৮তম বিসিএম ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা বাংলাদেশ বেতার ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

২০০৫ সালে তিনি ডেপুটি রিজিওনাল ডাইরেক্টর হিসেবে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামে যোগ দেন। ২০০৬ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য (মাস্টার্স অব পাবলিক পলিসি) পাড়ি জমান কোরিয়াতে। সেখান থেকে ফিরে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামে ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে দ্বিতীয় বার এর জন্য ।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (সংসদ) বাস্তবায়নের পরিকল্পনাসহ বিটিভির এই চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠায় নিতাই ভট্টাচার্যের রয়েছে বিশাল অবদান। নভেম্বর ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশন (নিমকো)-এর ডেপুটি ডাইরেক্টর (প্রোগ্রাম) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল ম্যানেজার) হিসেবে যোগ দেন নিতাই কুমার ভট্টাচার্য।

দীর্ঘ চাকরী জীবনে তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ হিসেবে সমাদৃত নিতাই ভট্টাচার্য। বিভিন্ন বিষয়ে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৫০ এর কাছাকাছি । তবে নতুন প্রজন্মকে তথ্য প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। দেশে কমিউনিটি রেডিও’র একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। কমিউনিটি রেডিও’র ওপর তাঁর বেশ কয়েকটি নিবন্ধও প্রকাশ হয়েছে দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন পত্রিকায়।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং নিতাই কুমার ভট্টাচার্য-এর ক্ষুরধার মেধা ও অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতায় বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে আসে নতুনত্ব। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অতুলনীয় নির্মাণ বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে রাঙিয়ে তোলে ভিন্ন রঙে। অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানমালা। মাত্র দেড় ঘন্টার অনুষ্ঠান নিয়ে যাত্রা শুরু করা টেলিভিশনটির অনুষ্ঠান প্রচারের সময় দাঁড়ায় ১২ ঘণ্টায়। আশা করা হচ্ছে, শিগগির তা ২৪ ঘণ্টায় উন্নীত হবে।

বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নিতাই কুমার ভট্টাচার্য ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংক অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর আজীবন সদস্য। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হল, ১৮ তম বিসিএস ফোরাম, বৃহত্তর ফরিদপুর সমিতি এবং ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের আজীবন সদস্য।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই কর্মকর্তা যখন যেখানে কাজ করেছেন, সেখানেই ঘটিয়েছেন তাঁর পরিকল্পনা ও প্রতিভার সহজাত সংমিশ্রণ। অনুষ্ঠান নির্মাাণে রেখেছেন মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর। অনুষ্ঠান নির্মাাণে অনন্য ভূমিকার জন্যে ২০০৮ সালে অর্জন করেছেন এশিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের বেস্ট অ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে যোগদান করেই তিনি খুলনা বেতারের কর্মকর্তাদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।