নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত ‘স্বাধীনতা র‌্যালী’তে জনতার ঢল নামে। গণমানুষের ঢলে র‌্যালী পরিণত হয় জনতার উত্তাল জনসমুদ্রে!

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখনও সময় আছে পদত্যাগ করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অন্যথায় পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা র‌্যালী’র মধ্য দিয়ে এই অবৈধ সরকারের কানে আমরা যে বাণী পৌছে দিতে চাই সেটা হচ্ছে- তোমার (শেখ হাসিনার) দিন শেষ। দয়া করে এখন ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অন্যথায় সকল ডিক্টেটর সকল স্বৈরাচারী সকল ফ্যাসিবাদের যে পরিণতি হয়েছে আপনাদেরও সেই একই পরিণতি হবে।

আজ ২৬ মার্চ ২০২২ শনিবার, বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহান স্বাধীনতা দিবসের ‘স্বাধীনতা র‌্যালী’র উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ছয়শত নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। প্রায় হাজারের উপর নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা নেই। নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার স্বাধীনতা নেই। আজকে আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে চলে গেছে। চাল, ঢাল, তেলের দাম এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে সাধারণ মানুষ আর কিনতে পারে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম ও হু হু করে বাড়ছে। আবার নাকি নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়াবে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিষয়টিও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন। নয় মাস কারাবরণ করেছেন। আমাদের নেত্রী তিনি এর মাধ্যমে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের কাছে চিহ্নিত হয়েছেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রুখে দাঁড়াতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যদি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হয়, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে র‌্যালী শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ২.৩০টার মধ্যেই লাখো নেতাকর্মী বিএনপি কার্যালয় ও আশেপাশের রাস্তায় জড়ো হয়ে যান।
র‌্যালিতে অংশ নিতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাইক ও বাদ্যযন্ত্রসহ ঘোড়ার গাড়ি ও পিকআপ ভ্যানে করে নেতাকর্মীরা আসেন। তারা বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ও বাজান।
জাতীয় ও দলীয় পতাকা উড়িয়ে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে র‌্যালীতে অংশ নেয় লাখো জনতা।
‘স্বাধীনতার অপর নাম, জিয়াউর রহমান’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় নয়াপল্টন ও এর আশেপাশের এলাকা।
র‌্যালীতে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের দিয়ে একদিকে দৈনিক বাংলা মোড় আরামবাগ হয়ে নয়াপল্টন কার্যালয় অন্যদিকে নয়াপল্টন কার্যালয় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি, কাকরাইল মোড় ও আশপাশের রাস্তা ভরপুর হয়ে যায়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন─ বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য-সচিব আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহবায়ক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহববুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।