বিশেষ প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে : মেহেরপুর  জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা সম্মেলন নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। কারণ আগামীকাল থেকেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত সম্মেলন।

নিম্নোক্ত তারিখে সম্মেলনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। মেহেরপুর সদর আজ এপ্রিলের ৯, গাংনী এপ্রিলের ১০ তারিখ। মেহেরপুর পৌর এপ্রিলের ১৮, মুজিবনগর এপ্রিলের ১৯ ও মেহেরপুর জেলা সম্মেলন মে’র ১৪ তারিখ।

সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যতদুর জানা গেছে সব থেকে বেশী আলোচিত গাংনী উপজেলার সম্মেলন নিয়ে। কারণ তো আছেই।
আগামীকাল ১০ এপ্রিল গাংনী উপজেলা সম্মেলন। গোল বেধেছে এখানে আর তাহলো দুইজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীই হলেন রাজাকার পু্ত্র। এ নিয়ে দফায় দফায় মানববন্ধন করছে আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এখানে সভাপতি পদপ্রার্থী বর্তমানে এমপি আরেক জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুকুল। মেহেরপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকাশিত হয় যা গবেষণা করেছেন রফিকুর রশীদ। এই গবেষণা প্রকাশিত হয় যেখানে দেখা যায় যে উক্ত জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের ও রাজাকারদের তালিকা। গাংনী উপজেলার তালিকায় সিরিয়াল নাম্বার ৬, ৭ ও  ৯১ নাম্বারে উল্লেখিত দুইজন সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের পিতার নাম রাজাকার হিসাবে তালিকায় আছে। এই তালিকা গাংনী উপজেলার মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার জনাব মুনতাজ আলী বিগত ১৬ সালে জেলা প্রশাসনের কাছে দাখিল করেন। পত্রের সুত্র নং

০৫৪৪৫৭০০০,১২,১২০০৭১৬-৭৫১ তারিখ ০২/১২/১৬ বিষয় হিসাব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের সহায়তায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষন ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ করেছেন তিনি। স্হানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও আওয়ামী পরিবারের দফায় দফায় আন্দোলন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আগামী কাল ও পরশু দিন সম্মেলনকে সামনে রেখে কর্মীরা ও মুক্তিযোদ্ধারা সোচ্চার ও মানববন্ধন করে চলেছে যাতে এই স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তানরা দলীয় পদে না আসতে পারেন।


জানা গেছে যে কোন মুল্যে এই দুই রাজাকার পুত্রের পদপদবী লাভ স্থানীয় নেতা কর্মীরা প্রতিহত করবে।

এই দুজনের পিতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে হত্যা লুট,অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। মাননীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির ৩ এ কার্যালয়ে বিগত ১৩/০৩/২২ তারিখে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর
একটি অভিযোগ থেকে জানা যায়, যে কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল গনি’র পুত্র স্থানীয় এমপি সাহিদুজ্জামান খোকন ও কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল মান্নানের পুত্র মকলেছুর রহমান মুকুলসহ সকল রাজাকার, হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের আসন্ন সম্মেলনে সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মীরা আর নেতৃত্বে দেখতে চান না। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে আওয়ামী লীগকে রাজাকার মুক্ত করার জোর দাবী জানান। দলের কেন্দ্রীয় সুত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে দলে অভ্যন্তরে ব্যপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরেকদিকে সভাপতি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য নূরুল হকের সন্তান ডাঃ সাগর, যিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা ও এলাকায় ব্যপক জনপ্রিয় নেতা হিসাবে পরিচিত ও কর্মীবান্ধব। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করে ডাঃসাগর সভাপতি হলে আওয়ামী লীগের পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে ও কোন্দল বন্ধ হবে। পৌর মেয়র আহম্মদ আলী ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধাধণ সম্পাদক আব্দুল খালেকও শেষ পর্যন্ত সভাপতি প্রাথী হতে পারেন। আব্দুল খালেক বর্তমানে জেলার সাধারণ সম্পাদক, তিনি কিভাবে উপজেলার সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে । সাধারণ সম্পাদক হিসাবে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় আছে তার গ্রহণযোগ্যতাও আছে। এই উপজেলায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী প্রায় ১০ জন। আগামী ১০ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা সম্মেলন। কর্মীদের আশা সঠিক নেতৃত্ব আসবে যা আগামী দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

আগামী কাল ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মেহেরপুর সদর উপজেলার সম্মেলন। এখানেও টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সভাপতি পদে গোলাম রসুল ও বাবলু বিশ্বাসের নাম আলোচনায় আছে। তবে নেতাকর্মীদের আশা নিবেদিত আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে গোলাম রসুল অনেকটাই এগিয়ে আছেন।

সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ৮০ দশকের প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতা, জোট সরকারের আমলে নির্যাতিত সালে আল আজিজ টনিক বিশ্বাসের নামও অধিক আলোচিত। নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি সমভাবে জনপ্রিয়। আরেকজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জনাব শহিদুল ইসলাম পেরেসান।তিনিও যুব সমাজের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়। সাধারণত নেতাকর্মীদের মতামত তাকে যুবলীগ থেকে সরালে যুবলীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এবং তিনি বয়সে তরুন। সামনের দিনগুলোতে তাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাবে।

এবার হিসাব নিকাশের পালা। কে হবে উল্লেখিত উপজেলার নেতা? খুলনা বিভাগের অন্য সব  উপজেলায় অনুষ্ঠিত  সম্মেলন গুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের মনোভাব হলো বিদ্রোহী ও বিতর্কিত ব্যাক্তি যেমন জামাত বিএনপি ও ফ্রিডমপার্টি মুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বে আনা।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর দলীয় নেতা কর্মীরা নুতন নেতাকে হাসি মুখে বরণ করবেন এই প্রত্যাশা সকলের।

অন্যদিকে, আমাদের গাংনী প্রতিনিধি স্বপন আলী জানিয়েছেন। ১৮ বছরের জল্পনা কল্পনার অবসানের পর আগামীকাল ১০ এপ্রিল গাংনী উপজেলা সম্মেলন। কয়েক দফা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হলেও নানান জল্পনা কল্পনা শেষে আগামীকাল নির্দিষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্বের স্বাদ পায়নি। সবশেষে গত ২০-শে মার্চ নির্ধারিত হয়েছিল সম্মেলনের তারিখ। অবশেষে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় স্থগিত হয়ে যায় সেই তারিখও।
পরবর্তীতে মেহেরপুর সার্কিট হাউসে বসে পুনরায় দলীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেন আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল। আগামীকাল ১০ এপ্রিল রবিবার গাংনী পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনকে ঘিরে অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন নতুন নেতৃত্বের। আবার অনেকেই মনে করছেন বর্তমান নেতৃত্ব পুনরায় আসলে দল মুখ থুবড়ে পড়বে। সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলা জুড়ে সাজসাজ রব বেড়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী তোরণ।

আগামী ১০ এপ্রিলের সম্মেলন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে রয়েছে বর্তমান সভাপতি ও সাংসদ (এমপি) সাহিদুজ্জামান খোকন, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সমাজসেবক নুরজাহান বেগম, গাংনী পৌরসভার মেয়র আহমেদ আলী, সাবেক ছাত্রনেতা ডা. এএসএম নাজমুল হক সাগরসহ বেশ কয়েকজন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. একেএম শফিকুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. রাশেদুল হক জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেনসহ আরো অনেকেই।