নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সম্মেলন হচ্ছে। ঈদের পর থেকে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয় দলের সাধারণ সম্পাদক। গত দুইবার কাউন্সিলে ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার ওবায়দুল কাদের যে সাধারণ সম্পাদক থাকছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। শারীরিক অসুস্থতা দুইবারের মেয়াদপূর্তি ইত্যাদি নানা বাস্তবতায় ওবায়দুল কাদেরের বদলে আওয়ামী লীগ এবার নতুন সাধারণ সম্পাদক পেতে যাচ্ছে। কে হবে নতুন সাধারণ সম্পাদক এ নিয়ে দলের মধ্যে নানারকম জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকা বলছে, এবার আওয়ামী লীগ হয়তো একজন ফুলটাইম বা পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক দিতে পারে। যিনি শুধুমাত্র দলের কাজ করবেন, অন্য কিছু নয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং সেই সময় তাকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সংগঠনের প্রয়োজনে তিনি মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে সংগঠন গোছানোর কাজ করেছিলেন। মন্ত্রীত্বর চেয়ে দল তার কাছে মুখ্য হয়েছিল। আর সেজন্যই আওয়ামী লীগকে তিনি শক্তিশালী তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জনসংগঠনে পরিণত করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সব সময় দল এবং সরকারকে আলাদা করার চেষ্টা করতেন। পঁচাত্তরের পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে দীর্ঘ ২১ বছর পর। শেখ হাসিনার সামনে তখন সরকার এবং দল আলাদা করার কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু ২০০৮ এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ টানা প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতায় আছে। এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুর সেই চিন্তাকে দলের ভেতর বাস্তবায়ন করতে চেয়েছেন। সরকার এবং দলকে আলাদা করার একটা দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকবেন না, এরকম একটা পরিকল্পনার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন চলছে। এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাড়া আর মাত্র চারজন আছেন যারা একাধারে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্য।

এরা হলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এবং দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং ডা. দীপু মনি। এরা ছাড়া অন্য যারা আগে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। আবার অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকায় মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। তবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বারবার কাউন্সিলে দলের সাধারণ সম্পাদককে মন্ত্রী এবং সাধারণ সম্পাদক দুটি জায়গায় রাখা হয়েছে। সৈয়দ আশরাফ মন্ত্রী ছিলেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। একই অবস্থা ওবায়দুল কাদেরের ক্ষেত্রেও। কিন্তু সেই জায়গা থেকে এবার হয়তো আওয়ামী লীগ সরে আসবে। আওয়ামী লীগ হয়তো এমন একজন সাধারণ সম্পাদকের কথা ভাবছে, যিনি সার্বক্ষণিকভাবে দলের জন্য কাজ করবেন। এর কারণ সামনে নির্বাচন। আওয়ামী লীগ সংগঠন অনেক বড় হয়েছে। তাছাড়া বিগত সময়ে একটা বিষয় লক্ষ্য করা গেছে যে, দলের সাধারণ সম্পাদক যখন মন্ত্রী থাকেন তখন তার পক্ষে দলের খুঁটিনাটি বিষয়ে বিভিন্ন এলাকায় কোন্দল, বিরোধ ইত্যাদি নিরসন করা সম্ভব হয় না।

গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কোন্দল-বিরোধ। এরকম অবস্থায় এই বড় রাজনৈতিক দলটাকে পরিচালনার জন্য একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদকের প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন। আর এই বিবেচনা থেকেই জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম এই নামগুলো ঘুরে ফিরে এসেছে। কারণ এরা দলের জন্য সময় দেন এবং দলের জন্য কাজ করেন। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যদি পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক নেয়া হয়, তাহলে এই তিনজনই প্রাধান্য পাবেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি একটি আবেগের জায়গা। কাজেই অনেকে মন্ত্রীত্ব ছেড়েও এই পদ গ্রহণ করতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগ যে একটি শক্তিশালী সংগঠনের কথা বিবেচনা করেই এবার কাউন্সিল করছে এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।