মীর্জা গালিব উজ্জল
মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই ফের শিরোনামে স্থান করে নিয়েছেন
সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মোতাসিম বিল্লাহ মতু। গতকাল তাঁর একটি লেখা ফেসবুকের দেয়ালে দেয়ালে ঘুরেছে। তাতে তিনি কি লিখেছেন? সেটি আমাদের জানতে হবে। অপর প্রার্থী কি ভাবছেন সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। প্রার্থী হিসেবে বিজয় লাভের পর তাঁরা জনগণের কি কি দায়িত্ব পালন করেছেন সেসব বিষয়েও আলোচনা করতে হবে। রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব-কর্তব্য-ব্যর্থতা-সফলতাগুলো তুলে ধরতে হবে। নির্বাচন এলে আমরা তথাকথিত ‘ভালো জনতা’ কী করি? আমরা কী চর্বিওয়ালা-টাকাওয়ালা প্রার্থীদের ছিটিয়ে দেওয়া উচ্ছিষ্ট সংগ্রহে অহোরাত্র দৌড়ঝাঁপ করি না? একটা মুরগির দামে আমরা কী প্রার্থীর সুচরিত্র-সুশিক্ষা-দেশপ্রেমের মতো বিরল গুণাবলি বিসর্জন দিই না? বিনিময়ে কী করি? ভোটবাণিজ্যে মত্ত হই! যোগ্য শাসক বেছে নিতে আমরা কী কোনো বাছবিচার করি?
আসুন, ভালো মানুষদের গণহারে রাজনীতি থেকে পলায়ন বন্ধ করতে হবে। তাঁদের ফেরাতে হবে রাজনীতির সম্মুখসারিতে। আর সে কারনে কথিত রাজনীতিবিদদের গালি দিয়েই আমাদের দায়িত্ব সেরেছে ভাবলে এই চোরাবালি থেকে উদ্ধারের কোনো পথ পাওয়া যাবে না। আমদের উপযুক্ত যোগ্য শাসক বেছে নেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে হবে।
-সেই দায়িত্ব থেকেই মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোতাসিম বিল্লাহ মতুর লেখাটি সম্মানিত পাঠকের উদ্দেশ্যে হুবহু প্রকাশ করছি-

সালাম ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা নিবেন। সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অক্লান্ত আমি নিজেকে উপস্থাপন করছি। এই চিরকুট শুধুমাত্র লেখা দু’টি লাইন না। একটি স্বপ্নের স্তম্ভ, ইতিবাচক আগামী’র নেতৃত্ব, সম্পর্কের দৃঢ়তা। গত প্রায় দুটি বছর গভীর উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও সংকট কাটিয়ে বৈশ্বিক করোনা মোকাবিলায় আপনাদের অগ্রণী ভূমিকা, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে নিজেদেরকে নানা মার্তায় উপস্থাপন করা, প্রিয়জন হারানোর কষ্ট, জীবন-জীবিকার মহাপ্রলয় সহ প্রতি মুহুর্তে পরিবেশের সাথে একপ্রকার যুদ্ধ করে সুস্থ থাকার যে রহমত; সেই রহমত সৃষ্টির মালিক মহান আল্লাহর নিকট অজুত কোটি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।
প্রিয় নগরবাসী,
আমি আজ ভিষণ আনন্দিত, উদ্বেলিত, আপনাদের কাছাকাছি আসতে পেরে। মনে হচ্ছে, কোনো সমুদ্রের কাছাকাছি যেয়ে চিৎকার করে বলছি আমি আবার কাউকে মা ডাকতে পারবো, কাউকে বোন, সন্তান কিন্বা ভাই। সমুদ্রের নির্মলতার মত আজ আমার হৃদয় নির্মল খুব জরিয়ে ধরে কাঁদতে মন চাচ্ছে। চোখের নোনা জ্বলে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে মন চাচ্ছে। কি ভিষণ আপন মমতার চাদরে জরিয়ে ভালবাসা দিয়েছেন, তাঁর ঋণ আমি আমৃত্যু বহন করতে চাই। ভালবাসতে চাই, ভালবাসা পেতে চাই।
প্রিয় নগরবাসী,
সেই ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ নীল নকশার প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আপনাদের অর্পিত সম্মানে চেয়ারম্যান এবং মেয়র হিসেবে এই নগরের খাদেম ছিলাম। পিছিয়ে থাকা একটি নগর ব্যবস্থাকে গতিশীল করা, উন্নত নগর জীবন উপহার দেওয়া, পরিচ্ছন্ন ও জবাবদিহি মূলক পৌর প্রশাসন সৃষ্টি করা সহ সর্বোচ্চ ভূমিকা গ্রহন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। ধারাবাহিক সাফল্যের গৌরব হিসেবে ২০০১ সালে সারা দেশের মধ্যে’মেহেরপুর পৌরসভা’ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে স্থান পায়। যা ছিলো অত্যন্ত আনন্দের গৌরবের সম্মানের। নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান সময়ের পরিক্রমায় আরো বেশি উন্নত ও শক্তিশালী হয়ে উঠে। দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়। প্রতি মুহুর্তে অদম্য আত্মবিশ্বাস, দৃঢ় মনোবল, গভীর সংকল্প নিয়ে অবিচল থাকি অগ্রগতির পথে। সংকট, প্রতি হিংসা, প্রচন্ড ক্ষমতার প্রয়োগ, পেশিশক্তি ব্যবহার সহ আমার প্রতি অবিচার জুলুম ছিলো প্রতি মুহুর্তে। তবুও এক আল্লাহর প্রতি অঘাত বিশ্বাস আর আপনাদের দেওয়া সম্মান ভালবাসায় এগিয়ে চলেছি এক নির্ভিক সৈনিকের মত। একের পর এক বাঁধা ভেঙ্গে স্থাপন করেছি সৃজনশীলতা, শক্তিশালী অবকাঠামো।
প্রিয় নগরবাসী,
প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভায় দায়িত্বের দুই যুগ পার হলেও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে মানুষকে জিম্মি করার মত নোংড়া মানসিকতা কখনোই ছিলো না আমার কিন্বা আমার পরিবার বা আমার আপনজন কারোরই। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকাসক্ত শ্রেণীর মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করিনি, চলার পথে সঙ্গি করিনি। চলেছি অতি স্বাভাবিক, সাধারণ সহজলভ্য হয়ে, দিনেরপর দিন স্থানীয় সংসদ সহ বিভিন্ন সচিবালয়ে ঘুরেছি এই শহরকে এগিয়ে নেওয়ার অভিপ্রায়ে। মেধায় মননে পরিশ্রমে ছিলো এই শহরকে ভাল রাখা, আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলা। যাঁর ফলশ্রুতিতে ঝকঝকে শহরে, নিরাপদ খাদ্য পানি, রাস্তা ড্রেন সহ একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে দীর্ঘ দিন শুনাম ছিলো এই পৌরসভার।
প্রিয় নগরবাসী,
শত প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে দেশ বিদেশে থাকা ধনী মানুষদের কাছে সাহায্য চেয়ছি এই শহরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। সুযোগ সুবিধা মত সহযোগিতা করেছি নানান কৌশল অবলম্বন করে। ইচ্ছে মানসিকতার গল্পে শুধুই ছিলো এই শহর আর শহরের মানুষ। আর এই মানুষ কে ভালবাসতে যেয়ে নিরাপত্তা দিতে যেয়ে চিহ্নত একটি পক্ষের রোষানলে পরেছি কতশত বার। মৃত্য বাবা- মা’কে গালি দেওয়া হামলা মামলা করা, মিথ্যে হত্য মামলা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চাওয়া সহ নিজ পরিবারকেও অনিরাপত্তার চাদরে রেখেছি। তবুও শত্রু পক্ষের রক্তচক্ষু কে উপেক্ষা করে আপনাদের ভালবাসায় থেকে গেছি দায়িত্বের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। প্রতিশ্রুতির ব্যতয় ঘটেনি বিন্দু পরিমান। এই শহরকে পিছিয়ে দিতে যাঁরা ২৪ বছর ধরে সোচ্চার ছিলো, প্রতিটা উন্নয়নের পিছন দেওয়াল সৃষ্টি করেছিলো, যাঁরা গত২০১৭ সালের নির্বাচনে আপনাদের সিদ্ধান্ত কে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বদলে দিয়েছিলো। তারাই আজ এই শহর কে অপরিচ্ছন্ন করেছে। প্রচণ্ড দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের নোংড়া অবস্থাকে প্রো স্ফুটিত করে তুলেছে। অতিতের ন্যায় আবারও নেপথ্যের দোয়া আর সমর্থনে এই কালো অধ্যায়ের অবশান ঘটিয়ে আবারও আপনাদের গ্রহনযোগ্যতা ও জবাবদিহি মূলক পৌর প্রশাসন সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় নগরবাসী,
সম্মান দেওয়া বা নেওয়ার মালিক এক আল্লাহ। আল্লাহর চেয়ে আপন কেউ নেই। জীবনের কঠোর সংকটময় দুঃসময়ে শুধু না, সকল মুহুর্তেই তাঁর কাছে চেয়েছি এবং হৃদয় দিয়ে বিশ্বাসও করেছি তিনি আমার ডাক শুনবেন। আমি এতটুকু বিশ্বাস করি আমার মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মাধ্যম দিয়ে আবারও আপনাদের খাদেম হয়ে এই শহর এবং শহরের মানুষের খেদমত করার পাহারাদার হওয়ার তৌওফিক তিনি দান করবেন। জুলুম করে সাধারন মানুষকে মিথ্যা দিয়ে ভুলুন্ঠিত করার অবসানের পথ তিনি সৃষ্টি করবেন।
অতিতের মান- অভিমান, অভিযোগ নিয়ে কথা বলা সময় এখন না, ভুল সংশোধন করে এগিয়ে যেতে আপনাদের দোয়া সমর্থন সহযোগিতা সহানুভূতি সহমর্মিতা ভালবাসা সহ পাশে চাই সাথে চাই, হাতে হাত রেখে উন্নয়ন ও নিরাপদ শহর গঠনে ঐক্যবদ্ধ হতে আহবান রাখতে চাই।
পরিশেষে- আগামী ২০২২’মেহেরপুর পৌরসভা’ নির্বাচনে নতুনত্ব, যুগোপযোগী, আধুনিক চমক হিসেবো আমার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করবো এবং আল্লাহ তাআলা যদি পুনরায় সুযোগ সৃষ্টি করেন তাহলে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাঁচ বছর পিছিয়ে যাওয়া পৌরসভাকে তাঁর নিজস্ব গতিতে ফিরিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ।
সকলেই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আমার জন্য বেশি বেশি দোয়া করবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।